আননিদা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হবার সবচেয়ে বড় কারণ যা ছিল তা হলো বাংলাদেশের মত একটি মুসলিম দেশে মাদ্রাসা ও স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থার দ্বিমুখী কারিকুলাম। একদিকে মাদ্রাসায় বছরের পর বছর একই সিলেবাস পড়ানোর কারণে শিক্ষার মান যুগোপযোগী ও উন্নত হয় হচ্ছে না অন্য দিকে স্কুল-কলেজে দুনিয়াবী শিক্ষা কিছু থাকলেও মুসলিম শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় শিক্ষা থেকে ক্রমাগত বঞ্চিত হচ্ছে। এতে করে দুটি ক্ষতি হচ্ছে, এক. মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে ভালো কর্মসংস্থান পাচ্ছে না, সমাজব্যবস্থা ও কার্যক্রম সম্পর্কে তেমন কিছু না জানা অবস্থায় কর্মজীবনে প্রবেশ করছে। দুই. স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা দুনিয়ার জ্ঞান-বিজ্ঞান কিছুটা শিখছে এবং কিছু কর্মসংস্থানও হয়ত হচ্ছে কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে যে জ্ঞান অর্জন করাটা তাদের জন্য ফরজ ছিলো সেটাই তারা শিখতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই যে দুটি শিক্ষা ব্যবস্থার দু’রকম পরিণতির কথা বললাম এটা শুধুমাত্র যে আমাদের উপলব্ধি তা নয় বরং আমরা বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা সমালোচনা দেখেছি। তবে এর দৃশ্যমান কোন পরিবর্তন মাদ্রাসা বা স্কুলে কোথাও দেখা যায়নি।
আননিদা ইনস্টিটিউট ঠিক এই জায়গাটিতে কাজ করতে চায়, উভয় শিক্ষায় শিক্ষিত ভাইবোনদেরকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ। আননিদা ইনস্টিটিউটের অন্যতম লক্ষ্য হলো আমাদের ভাই-বোনেরা, যারা প্রবল আগ্রহ ও ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে দ্বীনি ইলম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের মাঝে সহজেই তা পৌঁছে দেওয়া। আননিদা ইনস্টিটিউট ছোট-বড় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পেশাজীবী এবং ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণী পেশার নারী পুরুষ সবার জন্য একটি উন্মুক্ত প্রতিষ্ঠান।
আমাদের কাজ কী?
প্রথমত আমরা জেনারেল ভাইবোনদেরকে কায়দায়ে কুরানিয়্যাহ, জুয আম্মা ও বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত শিখতে সাহায্য করি এবং আমরা মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষিকাগণকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকি। এছাড়াও জেনারেল শিক্ষার্থী ভাইবোনদের জন্য আমরা দ্বীনী ইলম শেখার বিভিন্ন অনলাইন কোর্সের আয়োজন করে থাকি। আমাদের স্বপ্ন হলো, শীঘ্রই মাদ্রাসা শিক্ষা-ব্যবস্থায় একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী অবস্থান কায়েম করা এবং সে জন্য এক ঝাঁক তরুণ শিক্ষক প্রজন্ম গড়ে তোলা যাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের লক্ষ্যপথে অটুট ও অবিচল থাকবো ইনশাআল্লাহ।
